ডিসেম্বরের মধ্যে বিআইজেএফ নির্বাচন
সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রাণবন্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো দেশের তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের পেশাদার সাংবাদিকদের নিবন্ধিত সংগঠন বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরামের (বিআইজেএফ) দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা। সভায় দ্বিতীয় বারের মতো নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পেশ, কল্যাণ তহবিল কমিটি ঘোষণা এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ভোটের মাধ্যমে নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে ২০২৩-২০২৫ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটি। একই সঙ্গে শিগরিই নির্বাচন কমিশন গঠন এবং কমিশনকে সহায়তায় কার্য নির্বাহী কমিটি থেকে একটি কমিটি গঠনের কথাও জানানো হয়েছে সভায়।
বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্থ ভিশন ২০২১ টাওয়ারের সম্মেলন কেন্দ্রে বিআইজেএফ সভাপতি নাজনিন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সহসভাপতি ভূঁইয়া মোহাম্মাদ ইনাম লেনিন। এরপর বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক সাব্বিন হাসান। এসময় কোষাধ্যক্ষের পদকে সক্রিয়, কার্যকর ও দৃশ্যমান করার মাধ্যমে সাধারণ সদস্যদের কাছে আর্থিক স্বচ্ছ্বতার বিষয়টি সুস্পষ্ট করার পাশাপাশি নিয়মিত কার্যক্রম সম্পাদনের পাশাপাশি সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়নসহ ইন্ডাস্ট্রির ইনক্লুশনে বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির উদ্যোগ ও প্রাপ্তির কথা উল্লেখ করেন তিনি। সাব্বিন বলেছেন, দেশে প্রথমবারে মতো ই-বর্জ্য দিবস পালন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন ও পরিবর্তন-বিষয়ক সংসদীয় আয়োজনে অংশীজন হিসাবে মত প্রকাশের মতো জাতীয় ইস্যুতে অংশগ্রহণ, বিভিন্ন সমস্যায় সহযোগী হয়ে সদস্যদের জন্য প্রতিবাদ, বন্যাকবলিত জনগোষ্ঠীর পাশে দাড়াঁনোসহ সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়নে নেওয়া প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পাদিত হয়েছে দেশে নানা বৈরী পরিস্থিতি থাকার পরও।
এরপর সাধারণ সদস্যদের সমানে জুলাই ২০২৩ থেকে জুন ২০২৪ সময়ের অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাব দেন কোষাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম। বক্তব্যে বর্তমান কমিটি আর্থিক লেনদেনে শতকরা ৯০ ভাগ কার্যক্রম ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পাদন করা; সব ধরনের হিসাব-নিকাশ যথাযথ প্রক্রিয়ায় লিপিবদ্ধ করা এবং আর্থিক লেনদেন সম্পর্কিত সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রমাণাদি সংরক্ষিত আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সভায় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান, প্রকাশনা ও গবেষণা সম্পাদক আসাদুজ্জামান, কার্যনির্বাহী সদস্য ইমদাদুল হক ও এনামুল হকসহ সংগঠনদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য অংশ নিয়েছেন। তাদের কণ্ঠভোটে উপস্থাপিত আর্থিক প্রতিবেদন, কল্যাণ তহিবল কমিটি ও নিরীক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের নাম অনুমোদিত হয়।
নির্বাহী কমিটির নিয়মিত মাসিক সভা, বৈঠকের সিদ্ধান্ত নথিভুক্ত, আর্থিক বিষয়ে স্বচ্ছ্বতা, সদস্যপদ প্রদানে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণসহ সাংগঠনিক কার্যক্রমকে অংশগ্রহণমূলক করা ছাড়াও কথা জানান তিনি।
বিবিধ অ্যাজেন্ডায় সংগঠনের বিভিন্ন বিষয়সহ আসন্ন নির্বাচন বিষয়ে খোলামেলা মত প্রকাশ করেন সদস্যরা। সংগঠনের স্বার্থ সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়েও সভায় উন্মুক্ত আলোচনায় সদস্যরা অংশ নেন। আলোচনায় সংগঠনের গঠনতন্ত্রের নিয়ম অনুসারে যারা নিয়মিতভাবে তথ্যপ্রযুক্তি বিটে সাংবাদিকতা করছেন, এমন সাংবাদিকদের বিআইজেএফ’র সদস্যপদ দেওয়া, সংগঠনের গতিশীলতার জন্য বিভিন্ন বিষয়ে উপকমিটি তৈরি করে তাদের সক্রিয় করা, সদস্যদের সাংবাদিকতার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের সময়োপযোগী বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করা, দুই বছরের শুরুতেই পুরো মেয়াদের সব কার্যক্রমের একটা কর্মসূচি ও দিনক্ষণ নিয়ে ক্যালেন্ডার প্রস্তুত করা, বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি আর্থিক লেনদেনে যে স্বচ্ছ্বতা দেখিয়েছে এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করাসহ বিভিন্ন গঠনমূলক মতামত ব্যক্ত করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে নাজনীন নাহার বলেন, ২০২২ সালে সদস্য ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে গণতান্ত্রিক চর্চা এবং সদস্যদের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করা। সেই সাথে সদস্য কল্যাণে কাজ করা। এই দুই বছরে আমরা চেষ্টা করেছি আর্থিক বিষয়টিকে সম্পূর্ণরূপে নিয়মতান্ত্রিক এবং সাংবিধানিকভাবে পরিচালনা করার। সদস্য পদ প্রদান হতে শুরু করে সকল সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি সংবিধানকে এবং কার্যনির্বাহী সদস্যদের সংখ্যা গরিষ্ঠ মতামতকে। সেই সাথে সদস্যদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করণে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক ছিল উন্মুক্ত। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণে বাৎসরিক এজিএমগুলোর আয়োজন ছিল নিয়মিত। আয়োজনে সদস্যদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করেছে।
তিনি বলেন, আমরা সদস্যদের আন্তরিক সহযোগিতায় ২১ বছরের সংগঠনের প্রথমবারের মত একটি কল্যাণ তহবিল তৈরি করতে পেরেছি। আমরা চেষ্টা করেছি সাংগঠনিকভাবে গণতান্ত্রিক চর্চাকে সক্রিয় রাখতে। আশা করছি, আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। আজকের আয়োজন আমাদের এই মেয়াদের শেষ আয়োজন। খুব শিগগিরই আমরা নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে দিবো। কার্যনির্বাহী কমিটির প্রতিটি পদ ও সদস্যকে সক্রিয় ও কার্যকর করাই ছিল লক্ষ্য। বিআইজেএফকে সাংগঠনিকভাবে সংগঠিত ও সুদৃঢ় করতে নিরলস পরিশ্রম করেছে ইসি। ভবিষ্যতে নির্বাহী কমিটিতে যারা আসবেন, তারা যেনো এমনই ধারাবাহিকতা রাখতে পারেন সেই প্রত্যাশাই করছি।







